জাবিপ্রবিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জাবিপ্রবিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা’ শীর্ষক দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে মেডিকেল সেন্টার ও ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আমির হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অনিয়মিত ঘুম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা ও মানসিক প্রশান্তির বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু বাহ্যিক উন্নয়ন বা ক্যারিয়ার নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ না নিয়ে সুস্থ জীবনযাপনের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতিও আমাদের সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একজন শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকলেই তার মেধা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটানো সম্ভব। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা শুধু অসুস্থতা থেকে মুক্ত থাকার বিষয় নয়; বরং এটি একটি সুস্থ, দায়িত্বশীল জীবন গড়ে তোলার ভিত্তি। তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান। মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, রোগাক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া বেশি কার্যকর।অনিয়মিত জীবনযাপন, পুষ্টিহীনতা ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে শিক্ষার্থীরা নানা নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সচেতন জীবনধারা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামালপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরাই দেশের আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। তাদের সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সহযোগিতা প্রদানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে। তিনি নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করতে জাবিপ্রবি মেডিকেল সেন্টারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন জামালপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আসমা সরকার সূচনা। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রোটিনের ঘাটতি, রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), ডিহাইড্রেশন ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), নিয়মিত শারীরিক কসরত এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও মোবাইল ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতামূলক পরামর্শ দেন। আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মুহাম্মদ শাহজালালের সভাপতিত্বে এবং মেডিকেল অফিসার ডা. নীলিমা নাসরীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সারওয়ার জাহান ও জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অনারারি মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফি আলিম রকি। আলোচনা শেষে স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রশিক্ষক ডা. আসমা সরকার সূচনা। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Previus Post Next Post